‘মাসুদ রানা’র স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন

‘মাসুদ রানা’র স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন
গীতিকার শিল্পী লেখক কবি ‘মাহবুব উল আলম
সত্যিকার অর্থে রবীন্দ্র, নজরুল, বঙ্কিম, শরৎ এঁদের লেখার চরিত্রগুলোর কাছে ঘেঁষেছিলাম একাডেমিক কারণেই। কিন্তু, একাডেমিক কারণ ছাড়াই যাঁর তৈরি চরিত্র জীবনে আইকন হয়ে আছে সেটি হলো কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা। যে ঐন্দ্রজালিক প্রভাব কাজী আনোয়ার হোসেনের বিনির্মিত মাসুদ রানা আমাদের উপর বিস্তার করেছে, আমৃত্যু সেই প্রভাব মুক্ত হতে পারবো না। সেই ১৯৬৭ সালে যখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশে স্থান করে নিয়েছিল মাসুদ রানা। কখনও কারো কাছ থেকে ধার করে, কখনও ভাড়া করে, কখনও বা কিনে মাসুদ রানা পড়ে গেছি আর সেই সাথে, বলতে লজ্জা নেই তিলে তিলে মাসুদ রানা হতে চেষ্টা করেছি। শতভাগ না হলেও প্রতিটি পাঠকের মাঝে মাসুদ রানাকে পাওয়া যাবে। মাসুদ রানার পাশাপাশি কুয়াশাও ছিল প্রিয়। কাজীদা’র সম্পাদিত রহস্য পত্রিকাও ছিল সমান আদরণীয়। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল রহস্য পত্রিকায় লেখার, সেই সাথে কাজীদা’র সাথে দেখা করার। কাপ্তাইর রিজার্ভয়ের পানিতে সুলতার সলিল সমাধি এখনও ব্যথাতুর করে। মিত্রা সেন এখনও চোখে ভাসে। সোহানার ভালোবাসা নিভৃতে মনের জানালায় উঁকি দেয়। গিলটি মিয়ার অকৃত্রিম ভালোবাসা কেউ ভুলবে না। আর রাহাত খানের কঠোর কোমলে মেশানো চরিত্র কি আর তৈরি হবে? আমাদের সময়কে জয় করা, আমাদের আইকনিক চরিত্র মাসুদ রানার স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেন বেঁচে থাকবেন প্রজন্মান্তরে এই মাসুদ রানার মাধ্যমেই।
চির শান্তিতে থাকুন তিনি।