ছুটির ঘণ্টা’ ছবির আজিজুর রহমান না ফেরার দেশে

ছুটির ঘণ্টা’ ছবির আজিজুর রহমান না ফেরার দেশে
জীবন থেকে ছুটি নিলেন দেশের অন্যতম আলোচিত ‘ছুটির ঘণ্টা’র নির্মাতা ‘ পরিচালক আজিজুর রহমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাডার টরেন্টোতে সকল মায়ার বন্ধন ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।আজিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগেও একাধিকবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

আলিয়া রহমান জানান, তার বাবার মরদেহ কানাডা থেকে ঢাকায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। জন্মস্থান বগুড়ার সান্তাহারের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

আজিজুর রহমান ১৯৩৯ সালে বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার রেলওয়ে জংশন শহরের কলসা সাঁতাহার মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম রুপচাঁন প্রামাণিক। তিনি স্থানীয় আহসানুল্লাহ ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পাস ও ঢাকা সিটি নাইট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর চারুকলা আর্ট ইনস্টিটিউটে কমার্শিয়াল আর্টে ডিপ্লোমা করেন।

পরে ১৯৫৮ সালে খ্যাতিমান পরিচালক এতেহশামের সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় আজিজুর রহমানের। নির্মাণ করেন ময়মনসিংহের লোককথা নিয়ে সিনেমা ‘সাইফুল মূলক বদিউজ্জামান’। এরপর তিনি উপহার দিয়েছেন অশিক্ষিত (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), ছুটির ঘণ্টা’র (১৯৮০) মতো কালজয়ী সিনেমা।

তিনি ৫৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘ডাক্তার বাড়ি’, ‘গরমিল’, ‘স্বীকৃতি’, ‘সমাধান’, ‘অগ্নিশিখা’, ‘লাল কাজল’, ‘দিল’, ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’, ‘অপরাধ’, ‘গরমিল’, ‘মায়ের আচঁল’ প্রভৃতি।

আজিজুর রহমান দেশের একজন গুণী নির্মাতা। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এই সমিতি।