বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাদকের বিরুদ্ধে লড়তে হবে : ভূমিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাদকের বিরুদ্ধে লড়তে হবে : ভূমিমন্ত্রী
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকালে নগরীর মোটেল সৈকতে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদক একটি বড় ধরনের সমস্যা। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত করতে না পারলে বাংলাদেশ সোমালিয়া হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। মন্ত্রী বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফেনসিডিল খেত, তারা এখন ইয়াবাসহ অন্য মাদক সেবন করে। বড়লোকের ছেলেরা ফ্যাশন করতে মাদক সেবন করে। মাদক এখন পাড়া-মহল্লায় ঢুকে গেছে। এখনই প্রতিটি মহল্লায় মাদকবিরোধী কর্মশালা করতে হবে।’মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় কর্মশালার আয়োজন করেন।

তিনি বলেন, কিছু মাদক মেডিকেলে রোগীদের কাজে ব্যবহার করা হয়। ফেনসিডিল ও গাঁজা থেকে মাদকের সূত্রপাত বলে মনে হয়। যারা ফেনসিডিল খায় তারা এখন ইয়াবাসহ অন্য মাদক সেবন করে। বড় লোকের ছেলেদের কীসের টেনশন? তারা সকালে উঠে বাবার হোটেল খাচ্ছে। তারা ফ্যাশনের জন্য মাদকসেবন করেন।

আনোয়ারা-বাঁশখালী রোড ব্যবহার করে একসময় মাদক পাচার হতো। এখনো বিভিন্ন রোড ব্যবহার করছে। প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় এ ধরনের কর্মশালা করতে হবে। ইন্টারনেট এসেছে, সেটার কারণে মাদক ব্যবহার কম হচ্ছে। আমি ফেসবুক পছন্দ করি না। কাজে কর্মে যারা আছে তারাও ব্যবহার করছেন। যাদের প্রয়োজন নেই, তারও ব্যবহার করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় আমরা টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করতাম। এখন আমরা সেটা করছি না। এখন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে জানতে পারছি। আমাদের আগামী প্রজন্মকে মাদকমুক্ত গড়ার জন্য প্রত্যেকের অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

আগামী প্রজন্মকে প্রস্তুত করে যেতে না পারলে এই দেশ সোমালিয়া হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা জননেত্রী শেখ হাসিনা তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। গত ১৩ বছর এদেশ এগিয়ে গেছে। দক্ষ জনগোষ্ঠীর অভাব হয়েছে। তবে দক্ষদের চাকরি আছে, তাদের চাহিদা আছে।

বাংলাদেশ সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা করা হলে দিন ও রাতের পার্থক্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

পাকিস্তানের সঙ্গে এত পার্থক্য হবে, কেউ স্বপ্নে ভাবেনি জানিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, বাংলাদেশ যে শক্ত মজবুত জাতি হিসেবে দাঁড়িয়েছে তা বিশ্ব স্বীকৃত দিয়েছে। এটা সরকারের ধারাবাহিকতার জন্য সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তানের টাকার মান আমাদের চেয়ে অনেক কম। আমাদের ১ টাকা পাকিস্তনের দেড় টাকার উপরে আমার জানা মতে।

পাকিস্তনের চেয়ে সব ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একটা সুন্দর ব্যালেন্স দেশ হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

টিসিবির গাড়ির দিকে মানুষ যাচ্ছে আমরা দেখতেছি জানিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, সরকার বসে নেই। সরকার এটা নিয়ে কাজ করছে। সরকার এটা উপলব্ধি করেছে। আমরা এটাকে কমফোর্ট জোনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কীভাবে সরবরাহ বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে কাজ করছি। বাস্তবতাও মানতে হবে। যুদ্ধের বিষয়ে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। যুদ্ধের প্রভাব আগামী তিন মাস পরে পড়বে। করোনার সঙ্গে দুই বছর যুদ্ধ করেছে পৃথিবী। সমস্ত সরকারকে এটা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব তেলের বাজারে পড়েছে।