ব্রেকিং নিউজ » আজ বিপ্লবি মাষ্টার সূর্যসেনের জন্মদিন

ব্রেকিং নিউজ » আজ বিপ্লবি মাষ্টার সূর্যসেনের জন্মদিন
কাবুল দত্ত প্রতিবেদনঃ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্যসেনের ১২৮তম জন্মদিন আজ। ১৮৯৪ সালের ২২মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম তার। ১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে সূর্য সেন সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হন।মাস্টার দা’র স্মৃতি বিজড়িত রাউজানে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বাংলার এই সূর্য সন্তানের জন্মদিন উদযাপন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি এই কলেজের তিনি অধ্যাপক সতীশন্দ্র চক্রবর্তীর সান্নিধ্যে আসেন।তিনি যুগান্তর দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। সূর্য সেনকে তিনি বিপ্লবের মন্ত্রে দীক্ষা দেন। সূর্য সেন ১৯১৮ সালে শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রামে এসে গোপনে বিপ্লবী দলে যোগ দেন। ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে অনেক বিপ্লবী এই আন্দোলনে যোগ দেন। তখন গান্ধীজির অনুরোধে তিনিও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন।
মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুন্ঠন, জালালাবাদে ইংরেজদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ, ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দান করে তিনি ইতিহাসে বিপ্লবী খেতাব লাভ করেন। ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া এই বিপ্লবীর আবক্ষয় মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে মাস্টার দা সূর্যসেন স্মৃতি সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন।সোমবার (২২ মার্চ ) সূর্যসেন চত্বরে মাস্টারদা সূর্যসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।বাঙালির সংগ্রামী চেতনার বাতিঘর মাস্টারদা’র আবক্ষয় মূর্তিতে প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।মাস্টার দা সূর্যসেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। মাস্টার দা সূর্যসেন শুধু এই রাউজানের নয় তিনি বিশ্বের বুকে এক বিপ্লবী মহানায়ক হিসেবে পরিচিত।মাস্টারদা সূর্যসেনের ১৮৯৪ সালের ২২মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১৩ নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতর নাম রাজমনি সেন ও মাতার নাম শশী বালা। মাস্টার দা সূর্য সেন চট্টগ্রাম, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর জেলার বহরমপুর কলেজে অধ্যায়ন করেন। পরবর্তীতে ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি, এ পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হন। বহরমপুর কলেজে অধ্যয়ন কালে তাঁর শিক্ষক অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তীর সংস্পর্শে গোপন বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হন। শিক্ষা জীবন শেষে সূর্য সেন চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজার এলাকার “উমাতারা” উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এ সময় তিনি ‘মাষ্টার দা’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে কানুনগো পাড়ার নগেন্দ্রনাথ দত্তের কন্যা পুষ্প কুন্ডলার সঙ্গে প্রণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সূর্যসেন অনুরূপ সেন, চারু বিকাশ দত্ত, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন্দ্রনাথ সেনকে সঙ্গে নিয়ে গোপন বিপ্লবী দল গঠনের কাজ শুরু করেন। ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী কর্তৃক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে গান্ধীজির অনুরোধে তিনিও অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। পরে তিনি এক সময় শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা পাহাড়তলীর ফৌজি আস্ত্রাগার দখল করেন এবং চট্টগ্রামকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ে সন্মুখ যুদ্ধে মাস্টার দা’র বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনীকে পরাভূত করেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা সূর্যসেনকে গ্রেফতারের জন্য দশহাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুন্ঠন, জালালাবাদে ইংরেজদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ, ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দান করে বিপ্লবী খেতাব লাভ করেন।

১৯৩৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সূর্যসেন তার এক নিকট আত্মীয়ের বিশ্বাস ঘাতকতায় চট্টগ্রামের পটিয়ার গৈরালা গ্রামের ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাস নাম্নী এক পৌঢ়া মহিলার বাড়িতে অবস্থান কালে গুর্খা সৈন্যের হাতে ধরা পড়েন। ১৯৩৪ সালের ১২ই জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুুদণ্ড কার্যকর করা হয়।