ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের থানায় অভিযোগ

ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের থানায় অভিযোগ

মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝড়গাঁও গ্রামে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার সন্তানের বিরুদ্ধে।

সরজমিন গিয়ে জানা যায়, আকবর আলী (৪০), ছেলের বউ আমেনা বেগম (৩৫), ছেলের শশুর মোঃ আলমের (৫০) বিরুদ্ধে সদরের রুহিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা সাহারা খাতুন (৬১)। গত চারমাস আগে সাহারার স্বামী শাহাজোত আলী মারা যান।

নির্যাতনের শিকার সাহারা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন অযুহাতে আমার ছেলে আকবর আলী ও ছেলের বউ আমেনা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিকভাবেও নির্যাতন করে। একাধিকবার তাকে পিটিয়ে আহত করেছে বলেও অভিযোগ করেন। ওই নারী আরো জানান, তার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। বর্তমানে একমাত্র ছেলে আকবর আলীর সংসারে থাকছেন প্রতিবন্ধী মেয়ে হামিদা বেগমকে (৩৮) নিয়ে।
তার অভিযোগ ছেলে ও ছেলের বউ, ছেলের শশুর আলমের কুপরামর্শে প্রায় সময় তাঁকে খাবার দেয় না। এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারপিট করে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় ছেলের ঘর থেকে মাটি কাটা একটি শাবল হারানোর বিষয় নিয়ে ছেলের বউ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করতেই পাশে থাকা কাঠ দিয়ে আমার ছেলে আমার মাথায় আঘাত করে। কিন্তু সেই আঘাত আমার মাথায় না লেগে হাতে লাগে। মাটিতে পরে গেলে ছেলের বউ আমার মাথার চুল ধরে টানা হেচড়া করিতে থাকে। আমি চিৎকার করি, চিৎকার শুনে আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে আমাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে। তখন আমার ছেলের বউ আমাকে ছেড়ে আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারতে শুরু করে। পরে, আমার ও আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা আমাদের রক্ষা করে।
ওই বৃদ্ধ নারীর মেয়ে জহুরা ও মনসুরা বেগম জানান, আমরা তো মাকে দেখতে পারিনা, থাকি পরের বাড়ি। মায়ের ফোন পেয়ে আর থাকতে পারলাম না। আমার ভাইয়ের বউ ইতিপূর্বেও মাকে পিটিয়ে আহত করেছে। কিছুদিন আগে মায়ের হাতের আঙ্গুল ধারালো ছোড়া দিয়ে কেটে দিয়েছে। পরে ডাক্তারের কাছে নিয়ে সেলাই করতে লেগেছে। মা এখন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
অপরদিকে ছেলে আকবর আলী জানান, সে পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাই পরিবারের কারো সাথেই কোনো প্রকার সমস্যা হলেই সে দায় তার ওপর চাপানো হয়।

এদিকে, বৃদ্ধ ওই নারীকে নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান রুহিয়া থানার ওসি (তদন্ত) শহীদুর রহমান শহিদ। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি দৈনিক আমার সংবাদকে জানান।