নগরে পাচনের সবজির বেচাকেনার ধুম

নগরে পাচনের সবজির বেচাকেনার ধুম
চৈত্রের শেষ দিন পাচন রান্নার নিয়ম থাকায় নগরের কাঁচাবাজারে বিক্রি হচ্ছে হরেক রকম শাক-সবজি। আর বছরের প্রথম দিন খাওয়া হয় খই-নাড়ু-আটকড়ই। তাই দোকানিরা বিক্রি করছেন এসব খাবারও। পাশাপাশি নববর্ষে ঘর সাজানোর উপকরণ নিমপাতা আর হারগেজি (বিউ) ফুলের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। (১৪ এপ্রিল) মূল বিউতে রান্না করা হয় পাচন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এই পাচনকে বলা হয় ‘আডোরা’। ১৮টি মতান্তরে ১০৮টি সবজি দিয়ে তৈরী হয় এই খাবার। একসময় শুধু হিন্দু পরিবারগুলোতে পাচন রান্নার চল থাকলেও বর্তমানে মুসলিম পরিবারেও রান্না করা হয় ঔষধি গুণসম্পন্ন বিশেষ এই তরকারি।নগরের বকশিরহাট, বাজার হাজারী লেইন, সিরাজদৌল্লা সড়ক, বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার,কর্ণফুলী মার্কেট,আসকার দিঘী সড়ক, বকশিরহাট, চকবাজার সহ অলি-গলিতে ভ্যান গাড়িতে এসব পাচনের উপকরণ বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন রকমের সবজি একসঙ্গে কেজিপ্রতি ৫৫-৬৫ টাকায় মিলছে। বিক্রেতারা জানান, চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে আনা হয় পাচনের এসব উপকরণ।
এসব সবজির মধ্যে রয়েছে- কাট্টইস, তারা, ডুমুর, কাঞ্জল (কলাগাছের ভেতরের কাণ্ড), সজনে ডাটা, ছোট বেগুন, কেত্ররঙ্গা, কলার মোচা, কাঁচা কাঠাল, কাঁচা পেপে, কাঁচা কলা, কুমড়া, পটল, করলা, চালকুমড়া, গিমা, আলু, লাউ প্রভৃতি।
পঞ্জিকা মতে, বুধবার, ৩০ চৈত্র (১৩ এপ্রিল) ফুল বিউতে (বিষুব সংক্রান্তি) সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পার্বত্যবাসীরা বিউফুলের মালা গেঁথে নিমপাতাসহ ঘরের দরজার ওপরে টাঙিয়ে দেয়। রোগবালাইনাশক ও চর্মরোগের জন্য উপকারী নিমপাতা তারা সংগ্রহে রাখেন দীর্ঘদিন।এছাড়া গ্রামাঞ্চলে পানিতে গোবর মিশিয়ে উঠোনে ছিটিয়ে দেয়া হয়, ভাঁটফুল দিয়ে সাজানো হয় দরজা-জানালা। এসময়ে তিনদিন ভোর ও সন্ধ্যায় (পহেলা বৈশাখের ভোরবেলা পর্যন্ত) বুনো লতাগুল্ম পুড়িয়ে তার ধোঁয়া শরীরে লাগানো হয়। একে বলা হয় ‘জাগ দেয়া’।
এদিকে বক্সিরহাট এলাকায় পাইকারি খই-নাড়ু-আটকড়ইয়ের দোকানেও চলছে বেচাকেনা। মুড়ির সঙ্গে শিমের বিচি, মিষ্টি কুমড়োর বিচি, বাদাম, ভুট্টা, বুট, ডাল ভাজা, তিল মিশিয়ে তৈরী হয় আটকড়ই। খইয়ের গুঁড়ো, নারকেল, বড়ই দিয়ে বানানো হয় ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের নাড়ু। প্রতি প্যাকেট নাড়ু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। খই কেজি ২শ’ টাকা আর আটকড়ই কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলবে পূজা ও হালখাতা মহরৎ। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী (১৪ এপ্রিল) অনেক স্থানে আয়োজন করা হয়েছে হালখাতা মহরতের অনুষ্ঠান, চলবে মিষ্টিমুখ করানোর চেষ্টাও।