বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি আজ।

বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি আজ।
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই আজ বিদায় নিচ্ছে ১৪২৮ বঙ্গাব্দ। চৈত্রসংক্রান্তির এই দিনটিতে স্মৃতির ঘরে ঠাঁই নেবে বিদায়ী বছরের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা। ঋতুচক্রের পালাবদলে আজ বুধবার নতুন আশা নিয়ে আজকের সূর্যাস্তের সাথে সাথেই পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরের নতুন সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে বাঙালি। অতীত নিশি গেছে চলে/চিরবিদায় বার্তা বলে/কোন আঁধারের গভীর তলে/রেখে স্মৃতিলেখা/এসো এসো ওগো নবীন/চলে গেছে জীর্ণ মলিন/আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন/মুক্ত সীমারেখা।’বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি আজ। ঋতুরাজ বসন্তের চৈত্রের শেষ দিন আজ, তাই সে বিদায় নেবে। আবার একটি বাংলা বর্ষেরও শেষ দিন। পরের দিন অর্থাৎ আগামিকাল বৃহস্পতিবার পয়লা বৈশাখ, নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৯। চৈত্র মাসের এই দিনটিকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্রসংক্রান্তি।জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সব কিছুকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে গোটা জাতির।আবহমান বাংলার চিরায়িত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসে এ দিনটি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরনোকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন।
মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় উৎসব।জনশ্রুতি আছে- চৈত্র মাসে স্বামী, সংসার, কৃষি, ব্যবসার মঙ্গল কামনায় লোকাচারে বিশ্বাসী নারীরা ব্রত পালন করতেন। এ সময় আমিষ নিষিদ্ধ থাকত। জিয়ল মাছ (পানিতে জিইয়ে রাখা যায় এমন মাছ) যেমন কৈ শিং মাগুরের ঝোল করে খেতেন তারা। থাকত নিরামিষ, শাকসবজি আর সাত রকমের তিতো খাবারের ব্যবস্থা। বাড়ির আশপাশ বিল খাল থেকে শাক তুলে রান্না করতেন গৃহিণীরা। এই চাষ না করা, কুড়িয়ে পাওয়া শাক খেতে বাগানে বেশি বেশি পাওয়া গেলে বিশ্বাস করা হতো- সারা বছরের কৃষি কর্ম ঠিক ছিল। ফলে নতুন বছর নিয়ে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠতেন তারা।

গ্রামের নারীরা এ সময় সাজগোছ করেন ঘরদোর। মাটির ঘর লেপন করে ঝকঝকে করেন। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে রাখাল। সকালে গরুর গা ধুয়ে দেওয়া হয়। ঘরে ঘরে চলে বিশেষ রান্না। উন্নতমানের খাবার ছাড়াও তৈরি করা হয় নকশি পিঠা, পায়েস, নারকেলের নাড়ু। দিনভর চলে আপ্যায়ন। গ্রামের গৃহস্থরা এ দিন নতুন জামা কাপড় পরে একে অন্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। একসময় এমনই ছিলো চৈত্রসংক্রান্তির ধরণ। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মেই আজ বিদায় নিচ্ছে ১৪২৮বঙ্গাব্দ। চৈত্রসংক্রান্তির এই দিনটিতে স্মৃতির ঘরে ঠাঁই নেবে বিদায়ী বছরের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা। ঋতুচক্রের পালাবদলে আজ বুধবার নতুন আশা নিয়ে শুরু হবে ১৪২৯ বঙ্গাব্দ।নতুন বছরকে স্বাগত এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানানোর জন্য আবহমান কাল ধরে চৈত্রের শেষ দিনে নানা আচার-অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এর আগের দুইবছর করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পয়লা বৈশাখসহ সবধরণের জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠানও ছিল না।তবে এবার অনেকটা করোনা মুক্ত পরিবেশেই চৈত্র সংক্রান্তি এবং বাংলা নববর্ষ পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে একাত্তরের পর গত দুই বছর নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। এবার ছায়ানটের অনুষ্ঠানসহ বর্ডুল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ।
সব মিলিয়ে আজ সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দিচ্ছে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। আগামি বছরটা যেন হয়ে উঠে করোনা ভাইরাস মুক্ত নতুন বিশ্ব এবং সমৃদ্ধ বালাদেশ এই কামনা করেই পুরাতন বর্ষকে বিদায় জানানো হবে কাল। খবর বাসসের