জব্বারের বলীখেলা আজ বিকাল ৩টায়

১১৩ তম জব্বারের বলীখেলা আজ বিকাল ৩টায় ।এবার বলী খেলা হবে লালদিঘী মাঠের বাইরে জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চে।আর মেলা চলবে খেলার আগে ও পরে মোট তিনদিন। আর খেলা ঘিরে বৈশাখী মেলা বসবে লালদীঘি মাঠের আশেপাশের এলাকায় ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ (২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল) এই তিন দিন।তবে রমজান মাস হওয়ায় এবার বলী খেলার জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে উজ্জীবিত করতে স্থানীয় আবদুল জব্বার সওদাগর এই খেলার প্রচলন করেন। গেল দুইবছর করোনার প্রকোপ ছাড়া ১১১ বছর বিরতিহীন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই আয়োজন।
বলী খেলা ঘিরে কয়েকদিন ধরে উৎসবমুখর মেলার প্রচলন চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়।লালদীঘির পেট্রল পাম্প এলাকায় এখন মাটির তৈরি জিনিসপত্রের হাট বসেছে যেন। ঢাকা, শাহবাগ, সাভার, বরিশাল, কুমিল্লা থেকে মেশিন, ডাইস, হাতে তৈরি রকমারি মাটির জিনিস নিয়ে এসেছেন মাটির জিনিস কিনতে ছুটে আসছেন অনেকে।মাটির জিনিস কিনতে ছুটে আসছেন অনেকে।নানা বয়সী মানুষের ভিড়ও যেন বাড়ছে। হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, বাঁশি, শিশুদের খেলনা, টমটম গাড়ি, নারীদের ইমিটেশনের গহনা, শীতলপাটি, গাছের চারা, বাঁশের শলার তৈরি মাছ ধরার চাই (ফাঁদ), ডালা, কুলা, দা-বঁটি, প্লাস্টিকের ফুলসহ বাহারি সব জিনিস কিনতে আসছেন মানুষ। মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, হাতপাখাসহ টুকিটাকি কিছু জিনিস ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রকমারি শোপিসের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ এক বছরের গৃহস্থালি টুকিটাকি সংগ্রহ করেন। সঙ্গে কাঠের আসবাবপত্র দেখা গেছে ফুলের ঝাড়ু বা নারকেল পাতার শলার ঝাড়ুও।তবে দামচড়া সেহেরি পর্যন্ত স্টল খোলা রাখেন দিনে প্রখর রোদের কারণে অনেকে মেলায় আসেন না, তারা রাতে রিলাক্সে কেনাকাটা করেন। সোনালী ব্যাংকের সামনে বসেছে শীতলপাটির হাট। ছোট বড় মাঝারি নকশাদার বেতের পাটি মিলছে ১ থেকে ৪ হাজার টাকায়। পাটি বিক্রেতাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে সস্তা টেকসই প্লাস্টিকের মাদুর।
লালদীঘির উত্তর-পূর্ব কোণে বসেছে দেশি-বিদেশি ফুল ফলের চারার স্টল। আম, ডালিম, কমলা, সফেদা, মরিচসহ বাহারি ফুল, পাতা শোভা পাচ্ছে চারাগাছগুলোতে। বিক্রেতারা জানালেন, ছোট ছোট চারা বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এই বলী খেলা ও মেলার পরিধি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।চট্টগ্রাম পৌরসভা পরে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কমিটি প্রতি বছর ১২ বৈশাখ বলী খেলার আয়োজন করে আসছে।