ব্রেকিং নিউজ » ১১৩ তম জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন জীবন

ব্রেকিং নিউজ » ১১৩ তম জব্বারের বলীখেলায় চ্যাম্পিয়ন জীবন
»
১১৩ তম জব্বারের বলীখেলা আজ বিকাল ৩টায় সোমবার (২৫) লালদীঘি সংলগ্ন জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এবার বলী খেলার শুভ উদ্ভোধন করেন সিএমপির নতুন কমিশনার সালেহ তানভীর
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার ১১৩ তম আসরের আয়োজন লালদিঘী মাঠের বাইরে জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চে তিন ধাপে শুরু হয়ে ফাইনালের শুরু থেকে দর্শকরা জীবন ও শাহজালাল পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। জীবন বেশ কয়েকবার শাহজালালকে ধরাশায়ী করার চেষ্টা করেও পারেননি। শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম জীবনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন খেলার রেফারি আব্দুল মালেক। বেশ কয়েকবার সময় বাড়িয়ে ও ফলাফল দিতে গিয়ে উত্তজিত দর্শকের অনুরোধে পূনরয় চলে বলী শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট ভিত্তিতে তারিকুল ইসলাম জীবনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন খেলার রেফারি আব্দুল মালেক। ।সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নগরের লালদিঘীর পাড়ে ঐতিহ্যবাহী আব্দুল জব্বারের বলীখেলা শুভ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মেলা চলবে খেলার আগে ও পরে মোট তিনদিন।এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, শামসুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম, কোতোয়ালী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মুজাহিদুল ইসলাম আনদরকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর সভাপতি জহর লাল হাজারীসহ প্রমুখ। পরে বিজয়ীদের পুরুস্কৃত করেন চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী।
মেলা চলবে খেলার আগে ও পরে মোট তিনদিন। আর খেলা ঘিরে বৈশাখী মেলা বসবে লালদীঘি মাঠের আশেপাশের এলাকায় ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ হাজার হাজার লোকের পদচারনে মুখরিত
বলী খেলা ঘিরে উৎসবমুখর মেলার প্রচলন চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়। নারী পুরুষ শিশু কিশোর কিশোরীদের সরব উপস্হিতি লালদীঘির পেট্রল পাম্প এলাকায় এখন মাটির তৈরি জিনিসপত্রের হাট বসেছে যেন। ঢাকা, শাহবাগ, সাভার, বরিশাল, কুমিল্লা থেকে মেশিন, ডাইস, হাতে তৈরি রকমারি মাটির জিনিস নিয়ে এসেছেন মাটির জিনিস কিনতে ছুটে আসছেন অনেকে।মাটির জিনিস কিনতে ছুটে আসছেন অনেকে।নানা বয়সী মানুষের ভিড়ও যেন বাড়ছে। হাতপাখা, মুড়ি-মুড়কি, বাঁশি, শিশুদের খেলনা, টমটম গাড়ি, নারীদের ইমিটেশনের গহনা, শীতলপাটি, গাছের চারা, বাঁশের শলার তৈরি মাছ ধরার চাই (ফাঁদ), ডালা, কুলা, দা-বঁটি, প্লাস্টিকের ফুলসহ বাহারি সব জিনিস কিনতে আসছেন মানুষ। মাটির ব্যাংক, ফুলদানি, হাতপাখাসহ টুকিটাকি কিছু জিনিস ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের রকমারি শোপিসের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ এক বছরের গৃহস্থালি টুকিটাকি সংগ্রহ করেন। সঙ্গে কাঠের আসবাবপত্র দেখা গেছে ফুলের ঝাড়ু বা নারকেল পাতার শলার ঝাড়ুও।তবে দামচড়া সেহেরি পর্যন্ত স্টল খোলা রাখেন দিনে প্রখর রোদের কারণে অনেকে মেলায় আসেন না, তারা রাতে রিলাক্সে কেনাকাটা করেন। সোনালী ব্যাংকের সামনে বসেছে শীতলপাটির হাট। ছোট বড় মাঝারি নকশাদার বেতের পাটি মিলছে ১ থেকে ৪ হাজার টাকায়। পাটি বিক্রেতাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে সস্তা টেকসই প্লাস্টিকের মাদুর।
লালদীঘির উত্তর-পূর্ব কোণে বসেছে দেশি-বিদেশি ফুল ফলের চারার স্টল। আম, ডালিম, কমলা, সফেদা, মরিচসহ বাহারি ফুল, পাতা শোভা পাচ্ছে চারাগাছগুলোতে। বিক্রেতারা জানালেন, ছোট ছোট চারা বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এই বলী খেলা ও মেলার পরিধি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।চট্টগ্রাম পৌরসভা পরে সিটি করপোরেশন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কমিটি প্রতি বছর ১২ বৈশাখ বলী খেলার আয়োজন করে আসছে