‘লেইস ফিতা লেইস ? আমাদের সবাক্স বন্দী কিছু স্বপ্নসুখ!

‘লেইস ফিতা লেইস মনে আছে কি ? আমাদের সবাক্স বন্দী কিছু স্বপ্নসুখ!
সরজমিন ঘুরে পথ প্রান্তরের আজকের সংবাদ »শারমিন শামীম প্রতিবেদন
‘নিঃশব্দে, কোলাহলে ঈমান আলী হেকে বেড়ায় লেইস ফিতা লেইস! পথে পথে সে বেচে বেড়ায় বাক্স বন্দী কিছু স্বপ্নসুখ! সেই মকবুল নিয়ে আমাদের লেইস ফিতা লেইস’- এই কথাগুলো এই গানটির মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই লেখা, ৯০-এর দশকে এত চমৎকার ভিডিও বানানো হয়েছিল ভাবতেই অবাক লাগে!
৯০-এর দশকের সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না। শহরের যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে গেছে বাক্সবন্দি ব্যবসায়ী লেইস ফিতাওয়ালারা। তবে মফস্বল বা গ্রামের পথেও তাদের পদচারণা কদাচিৎ ঘটে। আধুনিক সভ্যতা কেড়ে নিয়েছে সেই লেইস ফিতাওয়ালাদের বিচরণ। তাই সচরাচর আর চোখে পড়ে না কাগজের কার্টনের ওপর সাদা বা লাল কাপড় পেঁচিয়ে পুঁটলি কাঁধে ঝুলিয়ে আরেক হাতে কাচের ঢাকনাওয়ালা বাক্স বহনকারী লেইস ফিতাওয়ালাদের।
বৃদ্ধ ফেরিওয়ালা মকবুল। ৩০ বছর ধরে নগরের প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন কানের দুল, নাকের ফুল, টিপের পাতাসহ বিভিন্ন জিনিস। এই ফেরিওয়ালার ব্যবসা করে আসছি। এই ব্যবসা করতে ভালো লাগে। যখন যাই, তখন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ আশপাশে ভিড় করেন। বেছে বেছে তাদের পছন্দের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন। প্রতিদিনই অনেক রকমের মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর আয় দিয়েই মেয়েকে দিয়েছেন বিয়ে। এখন ছেলেও কাজ করছেন। তবে জীবনের শেষ পর্যন্ত এ পেশায় থাকতে চান তিনি।বলেন, আগের মতো ব্যবসা হয় না। কমে গেছে আয়। রাস্তা দিয়ে হেঁকে যেতেন লেইস ফিতাওয়ালারা। তাদের সে ডাক শুনে খুকুমণিরা বায়না ধরত ফিতা-চুড়ি বা নেইলপলিশের। নারী বরাবরই প্রসাধনপ্রিয়, খুকুমণির আবদারে খুকুমণির মায়েরও দেখতে ইচ্ছা করত, কী আছে ফেরিওয়ালার বাক্সে! এটা থেকে ওটা পরখ করে নারীরা কিনে নিতেন স্নো, ক্রিম বা কদুর তেল। খুকুমণির কাঁধঝোলানো চুলে বেঁধে দেয়া হতো লাল টুকটুকে ফিতা।
এখন বাক্সবন্দি ব্যবসার চেয়ে অনেকে দোকান খুলে কিংবা অন্য ব্যবসার দিকে ঝুঁকে গেছেন অনেকটা। ফেরি করে লাভবান হওয়া যায় না বলে ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাই তাদের আর দেখা মেলে না। খুকুমণিরাও আজকাল আর লাল ফিতার বায়না ধরে না। লেইস ফিতাওয়ালা জমসেদ জানান, এখন আর আগের মতো গ্রামে কেউ চুড়ি-ফিতা কেনে না। মার্কেটে সবরকম প্রসাধন সামগ্রী আর সাজসজ্জার জিনিস পাওয়া যায়। এখন সবাই মার্কেটে যান। তারপরও জমসেদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘লেইস ফিতা, এই লেইস ফিতা’ ডাক।