ঈদে বাড়িফেরা: যাত্রী ভোগান্তির উল্টো দিক

ঈদে বাড়িফেরা: যাত্রী ভোগান্তির উল্টো দিক
কামরুল হাসান বাদল» বিশিষ্ট লেখক কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক
সরকারিভাবে আগামী ২ থেকে ৪ মে তিন দিন ঈদের ছুটি নির্ধারিত আছে। তার আগে পয়লা মে শ্রমিক দিবস বা মে দিবসের ছুটি। এর আগে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তার মানে এবার ঈদের ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে ২৯ এপ্রিল থেকে। এর মাঝখানে ৫ মে বৃহস্পতিবার অফিস খোলা। এরপর ৬ ও ৭ মে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ৫ মে ছুটি ঘোষিত হলে টানা নয় দিনের ছুটির ফাঁদে পড়বে বাংলাদেশ। গত দু বছর মানুষ মুক্তভাবে ঈদ করতে পারেনি। প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেকে গ্রামের বাড়ি যেতে পারেনি। ফলে এবার প্রচুর মানুষ শহর ছেড়ে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাবে।
যাত্রী কল্যাণ সীমিতর মতে এবার ঢাকা ছাড়বে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।
ধরুন, কাল সকালে পত্রিকা খুলে কোনও পাঠক যদি এমন একটি সংবাদ পড়ে যে, নরওয়ের সব অধিবাসী কয়েক দিনের ছুটি কাটাতে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, কেমন চমকপ্রদ হবে তা? অথবা সুইজারল্যান্ডের সব নাগরিক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সব মানুষ?
এমন ঘটনা হয়তো কখনোই ঘটবে না, তবে আমাদের দেশের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গটি তুললাম। কেন তুললাম তা বলার আগে আপাতত এই কয়েকটি দেশের আয়তন ও জনসংখ্যার বিষয়ে একটু ধারণা দিই। সুইডেনের আয়তন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬০ বর্গমাইল বা ৪ লাখ ৫০ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ১ কোটি ৩৫ হাজার। নরওয়ের আয়তন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৫২ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ৫০ লাখ। সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ৮০ লাখ। আর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যা হবে ৫০ লাখের কাছাকাছি। নরওয়ের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে যদি অন্যত্র ছুটি কাটাতে যায় তখন কী হতে পারে পরিস্থিতি! তা-ও আবার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৫২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষ। বিশ্বের অন্যতম ধনী ও আধুনিক এই রাষ্ট্রের পক্ষে কি সম্ভব এত বিপুল জনগোষ্ঠীকে সুচারুভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেওয়া? এত যানবাহন, এত অবকাঠামো এবং এত এত সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও। অন্যতম ধনী দেশ সুইজারল্যান্ড, যার জনসংখ্যা ৮০ লাখ। কিংবা বিশাল দেশ আর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো?
অথচ বাংলাদেশে এমন ঘটনাই ঘটছে অন্তত বছরে দুইবার এবং তা বছরের পর বছর ধরে। শুধু তাই নয়, নরওয়ে বা সুইজারল্যান্ড কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মতো বিস্তীর্ণ ও বিশাল এলাকা থেকে নয়। মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার এলাকা থেকে নরওয়ে কিংবা তার চেয়ে একটু বেশি এমনকি সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যারও বেশি মানুষ দুই ঈদের আগে মাত্র দুই বা তিন দিনের ব্যবধানে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছেন।
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট এ দেশের জনসংখ্যা এখন ১৭ কোটি। শুধু রাজধানী ঢাকায়ই বাস করে দেড় কোটি মানুষ। বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের তথ্য মতে, শুধু ঢাকা শহর থেকে প্রতি ঈদে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বা অন্যান্য জেলায় গমন করে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, রোজার ঈদের আগের চারদিনে প্রতিদিন গড়ে ঢাকা ছাড়বে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। কিন্তু সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথ মিলিয়ে ঢাকা থেকে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ১৬ লাখ। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ১৪ লাখ মানুষ পরিবহন সংকটে পড়বে বলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি জরিপে উঠে এসেছে। জরিপটি করেছেন দুর্ঘটনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পরিবহন সংকটে পড়া মানুষকে ট্রেনের ছাদ, লঞ্চে ওভারলোড, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থায় যাতায়াত করতে হবে।’
অধ্যাপক হাদিউজ্জামান আরও বলেন, “২০১৮-১৯ সালের ঈদুল ফিতরে ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ ঢাকা থেকে বের হয়েছিল। করোনার সময় হওয়া ঈদগুলোয় ঢাকা থেকে ৬০ লাখের মতো মানুষ বের হয়েছে। গত চার ঈদে যেহেতু মানুষ ঢাকা ছেড়েছে তুলনামূলক কম, সেহেতু এবার আমরা ধারণা করছি ১ কোটি ২০ লাখের মতো মানুষ ঢাকা ছাড়বে। ঈদের আগের চারদিনেই মূলত সিংহভাগ মানুষ ঢাকা ছাড়ে। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখ মানুষ ঢাকা থেকে বের হবে। কিন্তু যে পরিমাণ পরিবহন ব্যবস্থাপনা আছে, লঞ্চ, ট্রেন ও বাস এবং বিমান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৬ লাখ মানুষের ঢাকা থেকে বের হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ১৪ লাখ মানুষের একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ ১৪ লাখ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঢাকা ছাড়তে হবে। এটা একটা গড় হিসাব। ঈদের আগের চারদিনের মধ্যে যেকোনো দিন এ সংখ্যাটি কম বা বেশি হতে পারে। যেদিন যাত্রীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে, সেদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আরো ভয়ানক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন তিনি। অধ্যাপক হাদিউজ্জামান আরও বলেন, ২০২১ সালে ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৪ দিন সড়কের দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। গতবার যাত্রী ছিল ৬০ লাখ। এবার কিন্তু যাত্রীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।”
রোজার মাস ও ঈদ কাছাকাছি এলে আমাদের সংবাদমাধ্যমজুড়ে থাকে দুইটি বিষয়। রোজার মাসের আগে থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত কোন পণ্যের দাম বৃদ্ধির খবর। কোন পণ্যের দাম বাড়ল বা কমল এবং কাঁচামরিচ, বেগুন ইত্যাদির মতো দুয়েকটি পণ্যের দাম কীভাবে হঠাৎ আকাশচুম্বী হল তা। আর ঈদের আগে কোন শপিংমলে কী পাওয়া যায়, এবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় পোশাক তার দাম ইত্যাদি। বিষয়গুলো দৈনন্দিন ও উৎসব-সংশ্লিষ্ট বলে পাঠক বা দর্শকেরও জানার আগ্রহ থাকে। তবে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকে শুরু হওয়া ট্রেন, বাস, স্টিমারের টিকেট বিড়ম্বনা ও যাত্রী হয়রানির সংবাদ আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখি। মানুষের বাড়ি যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দ, লটারি পাওয়ার মতো যানবাহনের টিকেট পাওয়ার আনন্দ, বাস, স্টিমারের টিকিটের দাম বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পরিবহনের শিডিউল বিপর্যয় এবং অনিবার্য নিয়তির মতো দুর্ঘটনার সংবাদ আমি ভীষণ মনোযোগ দিয়ে দেখার চেষ্টা করি। অবশ্য শুধু আমি নই, দেশের প্রায় মানুষই তা দেখেন বা জানার চেষ্টা করেন। ঈদের আনন্দের মধ্যে মাঝে মাঝে দুর্ঘটনার খবর হরিষে বিষাদ হয়ে আসে আমাদের জীবনে।
অন্যদের বেলায় কী হয় জানি না, তবে আমি ভীষণ অবাক হই। বিস্মিত হই এবং প্রতিবারেই আমার বিস্ময়ের পরিধি বিস্তৃত হতে থাকে। আমি ভাবতে থাকি এটি কী করে সম্ভব! এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা বাংলাদেশের মতো একটি অনুন্নত দেশে, যেখানে সুষ্ঠু কোনও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই, সুষ্ঠু গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। আধুনিক ট্রেন নেই, ভালো সড়ক নেই, আধুনিক ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা নেই, এমন একটি দেশে তা সম্ভব হয়ে উঠছে কী করে! টিকেট ‘পাবো না, পাবো না’ বলে এক সময়ে ঠিকই টিকেট পাওয়া যাচ্ছে, যেতে ‘পারবো না, পারবো না’ করে এক সময়ে ঠিকই বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। এই অসাধারণ কর্মযজ্ঞ শেষ পর্যন্ত কী করে সম্ভব হয়ে উঠছে!
ভাঙা সড়ক, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি, ফিটনেসহীন স্টিমার, বৈরী আবহাওয়া, পুরনো ও সেকেলে বগি, সংস্কারবিহীন রেলপথ, কী করে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারলো! তা-ও আবার মাত্র দুটি রেলস্টেশন (কমলাপুর ও বিমানবন্দর), একটি স্টিমারঘাট (সদরঘাট) ও মাত্র কয়েকটি বাস স্টেশন থেকে। (দেশের অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরের হিসাব এখানে ধরা হলো না) ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যের ওই সব ধনী দেশ কী এর চেয়ে সুচারুভাবে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারত? আমার ভীষণ ইচ্ছে হয়, তেমন একটি বাস্তবতা দেখতে।
ঈদের আগে ও পরে বেশ কদিন ধরে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো অনবরত নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে থাকে। কোথায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হল, কোথায় কোন কাউন্টারে টিকিট পাওয়া গেল না। টিকেট পাওয়া গেলেও দাম বেশি নিচ্ছে ইত্যাদি। কিন্তু একবারও কেউ প্রচার করে না, এত বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পুরো সিস্টেমে কেমন একটু নড়াচড়া হতে পারে। আমার তো মনে হয়, বাংলাদেশের বর্তমান যে সক্ষমতা তার তুলনায় এই কাজটি একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং ‘ওভারলোডেড’ তো বটেই। আমার বিস্ময়ের সীমা থাকে না ভাঙাচোরা সড়ক, দীর্ঘ যানজট আর প্রায় পুরনো গাড়িগুলো এত লাখ লাখ মানুষ পরিবহন করে কীভাবে! শত বছরের পুরনো সংস্কারবিহীন রেলপথ এত যাত্রীকে শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছয় কী করে! আর বেশিরভাগ লঞ্চ-স্টিমার ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ-তিনগুণ যাত্রী নিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী পরিবহন করে কী করে! অন্য কোনও দেশে বাংলাদেশের মতো সক্ষমতা নিয়ে এর চেয়ে ভালো সেবা কি পাওয়া যেত? আমার জানার বড় আগ্রহ। কারণ আমাদের কোনও সংবাদমাধ্যম আজ পর্যন্ত এক প্রকার অসাধ্য সাধনের গল্প বা চিত্রটি ইতিবাচকভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপন করেনি। শুধু ব্যর্থতার চিত্র নয়- সাফল্যের চিত্রও সমানভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাই প্রধান বৈশিষ্ট্য সেখানে এ ধরনের সফলতার কাহিনী প্রচার হওয়া বড্ড প্রয়োজন। আমার মনে হয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একটু পাল্টানো দরকার। যে বাসচালক ও হেলপার দিনের পর দিন বিশ্রামহীনভাবে কখনও ৪৮ ঘণ্টারও বেশি বাসের ওপরে কাটাল, যে লোকোমোটিভ মাস্টার নির্ঘুম রাত জেগে ট্রেনটিকে গন্তব্যে পৌঁছাল কিংবা যাদের অকান্ত পরিশ্রমে দুই ঈদের এই মহাযজ্ঞ সমাধা হয় তাদের কথাও একটু তুলে ধরা দরকার। তাদের পক্ষেও দু-চার বাক্য ব্যয় করা দরকার।
তবে তার পরও কথা থাকে। কথা থাকে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের ঈদের আনন্দ নিয়ে, তাদের যাত্রার বিড়ম্বনা আর দুর্ঘটনা নিয়ে আরও কথা থাকে। আর তা হল এই বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ থেকে মানুষকে একটু স্বস্তি ও মুক্তি দিতে ঈদের ছুটি নিয়ে কথা থাকে। যে যাই বলুক রমজানে এমনিতেই বিপুল শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, বিশেষ করে সরকারি, আধা-সরকারি ও কিছু কিছু স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পুরো রোজার মাসেই কাজ চলে ঢিলেঢালাভাবে, অধিকাংশ অফিসে জোহরের নামাজের পর তেমন কোনও কাজই হয় না। অবশ্য যেসব প্রতিষ্ঠান বা দপ্তরে ঘুসের কাজ আছে তার চিত্র ভিন্ন। এসব অফিসে শবেকদরের পরে ‘সিরিয়াসলি’ কোনও কাজ হয় বলে মনে হয় না। তাই আমার মনে হয় ঈদের ছুটি শবে কদরের বন্ধের সঙ্গেই শুরু হলে যানবাহন বা বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে অত্যধিক চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ঈদের ছুটি মাত্র তিন দিন। এবারের মতো ঈদের আগে-পরে লাগোয়া সাপ্তাহিক বন্ধ পড়লে তা কিছুটা দীর্ঘ হয়। কাজেই ঈদে অত্যাবশ্যকীয় যেমন পরিবহন, আইনশৃঙ্খলা, চিকিৎসার মতো কিছু বিভাগ ছাড়া সরকারি অন্যান্য বিভাগে একটু আগে ছুটি দিলে ঈদের দুদিন আগের চাপ অনেকটা কমে আসত। তাতে অন্তত যানবাহন খাতে অরাজকতা ও দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
বাংলাদেশের মানুষ নগরবাসী হয়েছে সম্প্রতি। এখনও গ্রামেই রয়ে গেছে তাদের নাড়ির টান। মানুষ শহরে বাড়ি করলেও তাকে অধিকাংশ লোকই বলে বাসা, আর বাড়ি বললে এখনো বোঝায় গ্রামে ফেলে আসা বাড়িকে যেখানে ঈদ-পার্বণ ছাড়া আসাই হয় না। কাজেই প্রতি ঈদে নগরবাসীর একটি বিশাল অংশ বাড়ি ফিরবে। কয়েক প্রজন্ম পরে গিয়ে হয়ত এই পরিস্থিতি বদলাবে।