তেলের আগুন এবার মাছ-মাংসে ও

তেলের আগুন এবার বাড়ল মাছ-মাংসে র দাম
(মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম এর প্রতিবেদন )
ভোজ্য তেল, মসলাসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে আগেই। ঈদ সামনে রেখে এবার বাড়ল মাছ-মাংসে র দাম। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেলের দামও নতুন করে বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ নেই তীব্র সংকট। যদিও বা পাওয়া যায় ২০০থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এক লিটারের বোতল; যা সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি।রবিবার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে সয়াবিন তেল নেই। অনেকে আবার পাঁচ লিটারের বোতল ভেঙে বিক্রি করছেন। তবে তাও সীমিত। অনেকে আবার মজুদ করে রেখেছেন ঈদের পর দাম বৃদ্ধির আসায়। বাজারে সয়াবিন তেল না পাওয়া যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। সয়াবিন তেলের খোঁজে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন তারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মুদি দোকানের বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রির জন্য তেল লুকিয়ে রাখছেন। বোতলের গায়ে লেখা দামের চাইতে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন।
ঈদ বলেই প্রতি বছরের মতো এবারও মাংসের দাম চড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গরুর মাংসের দাম সপ্তাহ ব্যবধানে কোনো কোনো এলাকায় ১০০ টাকার বেশি বেড়ে ৮৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংসের দামও এলাকাভেদে কেজিতে ৮০ থেকে ১৩০ টাকা বেড়েছে। বেড়েছে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দামও। তবে বিস্ময়কর ভাবে বেড়েছে মাছের দাম।সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে সব ধরনের মাছের দামও। প্রতি কেজি তেলাপিয়া, ২২০ , রুই, কাতল মাছের দামও গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে ১০০টাকা ৩০০/৩৫০।ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে বেড়ে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে
ঈদের আগে দাহিদা কম থাকে বলে অন্যান্য বছর স্বভাবত মাছের দামও কম থাকে। তবে এবার দেশি-বিদেশি সব ধরনের মাছের বাজারই চড়া। ঈদের আগের হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দামের এই উল্লম্ফনে দিশেহারা ক্রেতারা। মনিটরিং না হওয়ায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, গত তিনমাসে প্রতিকেজি গরুর মাংসে দুইশ টাকার বেশি বেড়েছে। অথচ এ নিয়ে কেউ কথা বলছে না। সবাই আছে তেল-পেঁয়াজের দাম নিয়ে।
এদিকে দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা দোষ চাপাচ্ছেন একে অপরের কাঁধে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে দাম রাখছেন বেশি। আর এ কারণেই তারাও বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পাইকাররা বলছেন, ঈদযাত্রার কারণে পরিবহন জটিলতায় সরবরাহ কমায় কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে সরকারের তদারকি দরকার বলে মনে করেন। এঅবস্থায় বাজার থেকে পাড়া মহল্লা এলাকায়। এখানেও কোনো দোকানে বোতলজাত তেল নেই। যে কয়েকটি দোকানে বিক্রি করছে তারা বোতল ভেঙে বিক্রি করছে। জামালখান বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার কোনো দোকানে শুধু সয়াবিন তেল বিক্রি করছে না। সয়াবিন তেল কিনতে হলে অন্য বাজারও করতে হচ্ছে।