৭ই মে শেখ হাসিনা’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

২০০৭ সালের ৭ মে, সময়টা ছিল অন্যরকম । গণতন্ত্র আর রাজনীতির জন্য এক গুমোট পরিস্থিতি । এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত সফর শেষে ৫২ দিন পর দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা । যদিও এর আগে তার দেশে ফেরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিলো তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারঘোষিত জরুরি অবস্থা চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে শত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
কিন্তু সাহসী শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারের বেআইনি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে বিশ্বব্যাপী। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক দৃঢ়তা, সাহস ও গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর চাপে তদানীন্তন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়। ৭ই মে ২০০৭ সালের আজকের দিনে অবৈধ শাসন ব্যবস্থা হতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ বিকেল ৫ টার কিছু পরে ঢাকায় বিমানবন্দরে ফিরে এলে লাখো জনতা তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। ।এয়ারপোর্টে নেমে শুভেচ্ছা জানান দেশবাসীকে । ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মিছিল শোভাযাত্রা সহকারে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শুরু করেন নতুন সংগ্রাম।
গণতন্ত্রের শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। শুরু করেন সংকটের আবর্তে নিমজ্জমান অবস্থা থেকে দেশকে পুনরুদ্ধার করে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম। দিন বদলের অভিযাত্রায় উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাসে ৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বাংলাদেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ৭ মে উপলক্ষে প্রতিবছর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।৭ মে উপলক্ষে বাঙালির চিরঞ্জীব আশা ও অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ঘরে বসেই পরম করুণাময়ের নিকট বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার জন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন…
‘আমাদের আসতে বাঁধা দিয়ে যে ভুল করেছে আবার যদি এই রকম কিছু করতে যায় তবে আরেকটা ভুলের মধ্যে পড়বে, এইটুকু বলতে পারি’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরন করে নিতে সেদিন দুপুরে এয়ারপোর্টের আশেপাশে গুটিকয়েক মানুষ দেখা গেলেও হঠাৎই পালটে যায় সেই দৃশ্যপট। মুহুর্তেই এয়ারপোর্ট এলাকা পরিনত হয় জনসমুদ্রে। বোঝার উপায় ছিলোনা হাজার হাজার নেতা-কর্মী কোথা থেকে এলো, ঘরোয়া রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় ব্যানার ফ্যাস্টুন বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও জন মানুষের আবেগের কাছে ভেসে যায় সবকিছু, গাড়ির সামনে হাজার মানুষের মিছিল, মটরসাইকেল আর গাড়ির বহর নিয়ে তিন ঘন্টায় ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনে পৌছান বঙ্গবন্ধু কন্যা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফিরে যান সুধা সদনে।