মহাত্মা গান্ধীর ১৪২তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন

মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর ১৪২তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ রীতা দত্তের সভাপতিত্বে আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘গান্ধী জয়ন্তী’ পালন করে সন্ধ্যা ছয়টায় নগরীর এ কে খান স্মৃতি মিলনায়তন, ফুলকিতে লেখক সাংবাদিক ও .কবি কামরুল হাসান বাদলের সঞ্চালনে আলোচনাসভায় এতে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, স্বাগত বক্তব্য দেন আবুল মোমেন. কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক. প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন অধ্যক্ষ শিমূল বড়ুয়া
বিশেষ অতিথি ভারতের সহকারী হাই কমিশনার রাজীব রঞ্জন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক মাছুম আহমেদ ৷ সভা ও সেমিনার এ বক্তরা বলেন ভারত মাতার সন্তান হলেও তাঁর অহিংসা, সত্যাগ্রহ এবং স্বরাজ দর্শনের জন্য গোটা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছেন এই মহান পুরুষ৷ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘গান্ধী জয়ন্তী’ পালন করে৷ সরকারিভাবে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়৷ সারাবিশ্বে দিনটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে৷
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কর্ণধারসহ তিনি একাধারে তৎকালীন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং গুরু হিসেবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত৷ অহিংসা, সত্যাগ্রহ এবং স্বরাজ – এই তিন নীতির প্রবক্তা গান্ধীর সামনে অনুপ্রেরণা ছিল হযরত মুহাম্মদ এবং বুদ্ধের জীবন-দর্শন৷ গান্ধী বিশ্বাস করতেন যে, গভীর বিশ্বাস বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে৷
তাঁর মহান দর্শন ও কর্মময় জীবন স্থান ও কালের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে অনবরত৷ জুনিয়র মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, দলাইলামা থেকে শুরু করে অং সান সু চি’র মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জাতির গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও অধিকার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছে গান্ধীর মহান দর্শন৷
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ১৮৯১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বোম্বে ফিরে আসেন৷ সেখানে কিছুদিন আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন গান্ধী৷ এর দু’বছর পর ‘দাদা আব্দুল্লা অ্যান্ড কোং’ এ চাকুরি নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যান৷ সেখানে অবস্থানকালে বর্ণবাদী আচরণ ও বৈষম্যের শিকার হন গান্ধী৷ একদিন ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামরার বৈধ টিকেট থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় গিয়ে বসতে বলা হয়৷ তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ট্রেন থেকে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়৷ আরেকদিন এক ইউরোপীয় যাত্রীর জন্য ট্রেনে জায়গা ছেড়ে দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে ট্রেনের চালক প্রহার করে৷ ভারতীয় হওয়ায় বেশ কিছু হোটেলে স্থান পাননি তিনি৷ এছাড়া একদিন ডারবান আদালতের এক ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে পাগড়ি খুলতে বললে তিনি তা অস্বীকার করেন৷ এসব ঘটনা গান্ধীকে সমাজ সচেতন, প্রতিবাদী এবং বর্ণবাদ বিরোধী কাজে সক্রিয় করে তোলে৷
দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে নানা উদ্যোগ নেন এই মহান নেতা৷ সেখানে বসবাসরত প্রায় ৬০ হাজার ভারতীয়র জন্য প্রকাশ করেন ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিওন’ নামের একটি পত্রিকা৷ ১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারত ফিরে আসেন মহাত্মা গান্ধী৷ এরপর থেকে ভারতের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেন এই সংগ্রামী নেতা ও গুরু৷ ১৯২১ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গান্ধীর কাঁধে অর্পিত হয়৷ তিনি দলকে ঢেলে সাজান৷ এর কার্যক্রমকে গতিময় করে তোলেন৷ প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ জনতার নানা অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে তাঁর অহিংস আন্দোলন ধীরে ধীরে মানুষকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নেয়৷
এসময় দীর্ঘদিন অনশন এবং কারাগারে কাটাতে হয়েছে এই মহান নেতাকে৷ মহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে৷ আর এই সবক্ষেত্রেই মহান নেতা গান্ধীর দূরদর্শী ও বিচক্ষণ কৌশল, নির্দেশনা ও সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে ভারতবাসীর জীবনে যুক্ত হয় বিজয় আর মুক্তির স্বাদ৷ ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রার্থনা সভায় যোগ দেওয়ার জন্য হেঁটে যাওয়ার সময় নাথুরাম গডসের গুলিতে প্রাণ হারান মহাত্মা গান্ধী৷