শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সাহিত্যে ড. শিরীণ আখতার প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন

মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম শিল্পকলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. শিরীণ আখতারের সম্মাননা অনুষ্ঠান।
চট্টগ্রাম একাডেমির উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সম্মাননা অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি হলে একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি দৈনিক আজাদী সম্পাদক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব এম এ মালেক বলেন প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার একজন ভাগ্যবান মানুষ। তিনি একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য। প্রথম মহিলা উপাচার্য তিনি। এই জীবনে অনেক কিছু তিনি পেয়েছেন, যা তাঁর জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। এই সম্মাননাও প্রাপ্তির একটা অংশ। এম এ মালেক বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের আজাদীর একটা সম্পর্ক রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আজাদীর ভূমিকা আজ ইতিহাসে পরিণত। আবার এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আজাদীর পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক বৃত্তি। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ কর্তৃক মনোনীত শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পেয়ে থাকে। আমরা এ জন্য একটা অনুদান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে রেখেছি। এই অনুদানের পরিমাণ আগামীতে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও আছে আমাদের। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের যে কোনো সম্মানকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। শিক্ষাবিদ হিসেবে এবং রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারকে চট্টগ্রাম একাডেমি যে সম্মাননা প্রদান করছে, তাতে আমি আনন্দিত।

এম এ মালেক আরো বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ড. শিরীণ আখতার। শিক্ষা–সংস্কৃতি ও সাহিত্যে সমস্ত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যে ভূমিকা তিনি পালন করছেন, তা প্রশংসাযোগ্য। শিক্ষা এমন এক মাধ্যম, যা সমাজকে আলোকিত করে, যে শিক্ষা নীতি নৈতিকতা শেখায়, মনে উদারতা আনে, মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে। মানবতাবোধসম্পন্ন মানুষ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে শিক্ষার বিকল্প নেই। আমরা আজ সেই প্রকৃত শিক্ষাই অন্বেষণ করতে চাই। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম একাডেমির মহাপরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী। আলোচনায় অংশ নেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মহিবুল আজিজ। চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ রীতা দত্ত। কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার। নাট্যজন ও কবি অভীক ওসমান। চট্টগ্রাম একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কবি ও গল্পকার জিন্নাহ চৌধুরী, একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শিল্পশৈলীর সম্পাদক প্রাবন্ধিক নেছার আহমদ, একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক খ্যাতিমান ছড়া সাহিত্যিক অরুন শীল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমু। অনুষ্ঠানের সার্বিক অলংকরণে ছিলেন চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব কবি ও সাংবাদিক রাশেদ রউফ। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন চট্টগ্রাম একাডেমির এক ঝাঁক কবি ও ছড়া সাহিত্যিক।