আজ ২৪ জানুয়ারী চট্রগ্রামে গনহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা

আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি)। ১৯৮৮ চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি কালো দিন, এদিন.১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকালে লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সমাবেশে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী–বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহর লক্ষ্য করে গুলি করে পুলিশ। শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মারা যান ২৪ জন নেতাকর্মী।
দীর্ঘ ৩২ বছর আগের এ ঘটনায় ২৪ জন মুহূর্তের মধ্যে নিহত হন এবং দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এটি ছিল গণহত্যা। গণহত্যা পূর্বপরিকল্পিত ও শেখ হাসিনাই নিঃসন্দেহে ছিলেন আসল লক্ষ্য। নিহতদের কারও লাশ পরিবারকে নিতে দেয়নি সে সময়কার সরকার।
সাক্ষ্য-প্রমাণ গোপন ও বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে সবাইকে বলুয়ার দীঘি পূর্বপাড়ের মহা শ্নশানে জঘন্য নির্মমতায় পুড়িয়ে ফেলা হয় বিশেষ পাহাড়ায় কারফিউ দিয়ে ডোম কালুকে মদ খাওয়ায়ে মাতাল করা হয়। এরশাদের পতনের পর ১৯৯২-এর ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহিদুল হুদা বাদী হয়ে ৪৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন; কিন্তু বিএনপি আমলে মামলার কার্যক্রম এগোয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মামলা পুনরুজ্জীবিত হয়। হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়।
দীর্ঘ ৩২ বছর পর ২০ জানুয়ারি ২০২০-এ ৫ পুলিশের ফাঁসির হুকুম হল। প্রধান আসামি মির্জা রকিবুল হুদা ইতিমধ্যে মৃত এবং তৎকালীন প্যাট্রোল ইনসপেক্টর জেসি মণ্ডল ফেরারি।
সেদিন শেখ হাসিনার আসার পথে তিনটি ব্যারিকেড দেয়া হয়েছিল- কোতোয়ালি মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ও লালদীঘি এলাকায়। প্রথম ব্যারিকেডটি সরিয়ে নেয়া হয় এবং তা ছিল কৌশল। রায়ে বর্ণিত হয়েছে, তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রকিবুল হুদা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওয়্যারলেস সেটে নির্দেশ দিচ্ছিলেন- ‘যত পারো গুলি কর। সবাইকে শোয়ায়ে ফেল…’।
প্রশ্ন হচ্ছে, মুহূর্তের উত্তেজনায় নাকি এ ছিল ধারাবাহিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চেষ্টা?
মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে লুটিয়ে পড়েছে অনেকে- অনেকের মগজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে চারদিকে। সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন আহত, গাড়ি থেকে নিচে পড়ে গেছেন।
আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম কয়েকজন পুলিশ মাত্র ১০-১২ হাত দূর থেকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার দিকে রাইফেল তাক করেছে- তারা বলছে ‘গুলি করি, গুলি করি’। সে মুহূর্ত মনে হল অনন্তকালের জন্য সময় স্তব্ধ হয়ে গেল- চরম পরিণতি এলো বলে।
কিন্তু কানে এলো নেত্রীর বজ্র কঠিন কণ্ঠ, ধমক দিলেন-‘কাকে গুলি করবে?সত্যি অভাবনীয় এবং আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। মনে হয় সেদিন আরেক জন্ম হল।
বন্দুক নামাও’। মুহূর্তের মধ্যে যেন ত্বরিত স্পর্শে বজ্রাহত তারা রাইফেল নামিয়ে ফেলল। আমার মনে হয় পুলিশদের মাদক খাইয়ে সেদিন কর্তব্যে নিয়োজিত করা হয়েছিল
সত্যি অভাবনীয় এবং আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। মনে হয় সেদিন আরেক জন্ম হল।পরে জিপিও হয়ে বাংলাদেশ ব্যানক ড্রেনের ভিতর দিয়ে এলাম নিরাপদে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আজ চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিংস্থ পুরাতন বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মুখ চত্বরে ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে গণহত্যায় নিহত শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ ব্যাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। উক্ত কর্মসূচীতেে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সকল কর্মকর্তা, সদস্যবৃন্দ, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগ আজ সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম কোট বিল্ডিং এ গণহত্যায় শহীদদের স্মরণ করে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। কর্মসূচিতে সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের উপস্থিত ছিলেন।।