ইসরাইলের চরম নৃশংসতা ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার নির্দেশ

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে থাকা ১১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে যেতে বলেছে দখলদার ইসরাইল।চলছে ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ চরম নৃশংসতার শিকার গাজার বাসিন্দারা  । দখলদার বাহিনীর হাত থেকে ছাড় পাচ্ছেন না শিশু ও নারীরাও।  এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হামলায়  নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনের ওয়াদি গাজার উত্তরে বসবাসরত ১১ লাখ মানুষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ গাজায় স্থানান্তর করতে বলেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের এক মুখপাত্র।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় গাজার বাসিন্দাদের সরানোর এ বার্তা দেয় ইসরায়েল।বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। দেশটি গাজা সীমান্তের কাছে বিপুলসংখ্যক সেনা, ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও কামান মোতায়েন করেছে

এ বিষয়ে জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের স্থানান্তর অসম্ভব বলে মনে করে জাতিসংঘ।

গত ছয় দিনের অব্যাহত হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক হাজার ৫৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ শিশু রয়েছে। আর নারী রয়েছেন ২৭৬ জন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৬১২ জন। ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বৃহস্পতিবার ও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল

দখলদার বাহিনী শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। গাজায় খাবার সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিও বন্ধ করে দিয়েছে। জিম্মিদের মুক্তি না দিলে এগুলোর কোনো কিছুই গাজায় সরবরাহ না করার অঙ্গীকার করেছে তারা। ফলে গাজায় মানবিক সংকট গভীর থেকে আরও গভীর হচ্ছে।বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে এ কথা জানানো হয়েছে।

এদিকে হামাসের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩০০-এর বেশি ইসরাইলি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। হামাসের হামলা ঠেকাতে ভূমি থেকে হামলা পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি  । অন্যদিকে সংঘাত দীর্ঘ করতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হামাস।

গাজায়ও নিহতের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩৭ ছাড়িয়েছে।খবর আলজাজিরার

জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানিয়েছে, গাজার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ উত্তরাঞ্চলে বাস করেন। তবে জাতিসংঘ ইসরাইলের এই নির্দেশ বাতিলের জন্য জোরালোভাবে কাজ করছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, ইসরাইলের এমন পদক্ষেপ গাজায় চলমান ট্র্যাজেডিকে আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। গাজায় জাতিসংঘের সব কর্মী, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিকের কর্মীসহ সবাইকে সরিয়ে নিতে বলেছে ইসরাইল।