লকডাউন দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণের হার

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে চলমান বিধিনিষেধ বা ‘লকডাউন’ ফের বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে এ বিষয়ে বুধবার (১৬ জুন) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এ বছরের ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিয়ে দশম বারের মতো বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হলো স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ সামাজিক সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। এই লকডাউনের মধ্যে টানা দুই দিন কমার পর ফের বেড়েছে সংক্রমণ। সরজমিন ঘুরে দেখা যে যার ইচ্ছেমতোই চলছে সবকিছুই মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সচেতনতা নেই। গত কয়েক মাসে যখনই করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমলো, তখন মানুষ যেন আরও বেপরোয়া হয়ে গেল। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, সচেতনতার কোনো লেশ মাত্র নেই। নানা অজুহাতে মানুষ ঘরের বাইরে আসছে। মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে দেশজুড়েই দৈনিক শনাক্তে আবার দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বগতি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে। সীমান্তের কোথাও কোথাও দৈনিক শনাক্তের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে।এই লকডাউন কি পুরোপুরি কার্যকর? না, এই লকডাউন কোনোভাবেই কার্যকর নয়। এই লকডাউনে যথেষ্ট পরিমাণ পরিকল্পনার অভাব দেখতে পাচ্ছি। । শপিং মল ও গণপরিবহন আর হাটবাজারে দিনে দিনে আবার রাস্তায় ভিড় বাড়তে শুরু করেছে, কেউ কেউ তো উৎসবের আমেজে বিভিন্ন জেলা থেকে যাচ্ছে ঘুরতে ! এরই মধ্যে বিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠাান চলছে। কিছু অফিসও খোলা থাকে রাত পর্যন্ত ।এভাবে খোলা রেখে করোনার সংক্রমণ ঠেকানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউন আরোপ করা হয়েছে।

প্রথমবার বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। সেটি দুদিন বাড়িয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এই বিধিনিষেধ খুব একটা কাজে না আসায় ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ২ সপ্তাহের ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ। এরপর থেকে বিভিন্ন শর্ত আরোপ ও শিথিল করে কখনো সাত দিন কখনো ১০ দিন করে এ বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়াতে থাকে সরকার। সবশেষ বিধিনিষেধ ছিল ৬ জুন থেকে আজ ১৬ জুন পর্যন্ত। আজ বিধিনিষেধ একমাস বাড়ানো হলো ১৫ জুলাই পর্যন্ত। বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় কর্মকর্তাদের লকডাউনের ক্ষমতা দিয়ে এ নিয়ে দশম বারের মতো বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হলো। কাজেই সংক্রমণ ঠেকাতে বিধি-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি এলাকায় কঠোর নজরদারির কোনো বিকল্প নেই।