নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক সমবেদনা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কারখানায় আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় তিনি অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে রূপগঞ্জের ভুলতায় সেজান জুস ও আচারের কারখানায় আগুন লাগে। ছয়তলা কারখানাটিতে আগুনের ওই ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট দীর্ঘ প্রায় ২০ ঘণ্টার চেষ্টায় শুক্রবার দুপুরের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আমাদের সংবাদদাতা জানান নারায়ণগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।ষষ্ঠ তলা কারখানাটির চতুর্থ তলায় ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর বৃহস্পতিবার আগুনের ঘটনায় ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে, ২৪ ঘন্টার পরে ভবনটিতে আগুনের তীব্রতা কমে আসার পর পঞ্চম ও ষষ্ট তলায় অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।

তল্লাশি অভিযান শেষে গণমাধ্যমের কাছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন জানান, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় তল্লাশি শেষে আর কোনও মরদেহ পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আরও জানান, শনিবার পর্যন্ত সেখানে উদ্ধার অভিযান পরিচালন করবে ফায়ার সার্ভিস।এদিকে, আগুনে দগ্ধ মরদেহ শনাক্ত করতে না পারায় ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ইতিমধ্যে ডিএনএ টেস্টের জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ শুরু করেছে সিআইডি। নমুনা ম্যাচিংয়ের পর মরদেহগুলো আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেবে প্রশাসন। তবে, এক্ষেত্রে তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে নিহতের স্বজনদের।

সজীব গ্রুপের সেজান জুসের কারখানায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা ৪৯ জনের মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা অধিদপ্তর থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।