এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নড়াইলে পালন করা হলো বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

রোববার (১০ অক্টোবর)বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৪ সালের এই দিনে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরে জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
দিনটি উপলক্ষে শিল্পীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল হয়েছে। এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ই আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা সুলতান ১৯২৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতে করতে ছবি আঁকতেন তিনি। দিনটি পালন উপলক্ষে এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা আয়োজন করা হয়। আয়োজনে এস এম সুলতান কমপ্লেক্স ও শিশুস্বর্গে কোরআন খানি, শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল প্রেসক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
১৯৫০ সালে চিত্রশিল্পীদের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে পাকিস্তান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমেরিকা যান সুলতান। এরপর ইউরোপে বেশ কয়েকটি একক- যৌথ চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশ নেন তিনি। এ সময় পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি, পল ক্লীসহ খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের ছবির পাশে এস এম সুলতানের ছবি স্থান পায়।

১৯৫৩ সালে নড়াইলে ফিরে আসেন সুলতান। শিশু-কিশোরদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি চারুকলা শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ১৯৬৯ সালের ১০ই জুলাই ‘দ্য ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৭ সালে স্থাপিত হয় ‘শিশুস্বর্গ’। অবশ্য এর অনেক আগেই স্বপ্নের শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এসএম সুলতান।

সুলতান তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ১৯৯২ সালে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট দ্বিতল নৌকা (ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ) নির্মাণ করিয়েছিলেন। সুলতান তার শিল্পকর্মের মাধ্যমে খেটে খাওয়া মানুষ এবং সংগ্রামী জীবনের কথাই বেশি চিত্রিত করেছেন