আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতিও প্রধানমন্ত্রীর শোক,হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আজ জানাজা

 

হেফাজত ইসলামের আমির ও ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, আল্লামা শফী দেশে-বিদেশে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদকে হারালো।

রাষ্ট্রপতি মরহুম আল্লামা শফীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও ভূমিকা রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

হেফাজতে ইসলামের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সদ্যবিদায়ী মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার সন্ধ্যায় মারা যান।

দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর জানাজা ও দাফন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।  আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়ন ছাড়াও চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় ৭জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জানাজার নামাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের ওই চার উপজেলায় ১০ প্লাটুন বিজিবি টহল জোরদার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে একমাত্র জানাজা শেষে মাদ্রাসার ভেতরে বায়তুল আতিক জামে মসজিদ কবরস্থানে দেশ বরেণ্য এ আলেমকে দাফন করা হবে। হাটহাজারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির বৈঠক শেষে রাতে মুফতি মুফতি জসিম উদ্দিন এসব তথ্য মাদ্রাসার মাইকে ঘোষণা দেন। একই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে আহমদ শফীর মরদেহের সাথে থাকা পুত্র আনাস মাদানীও। পিত আহমদ শফীর জানাজা পড়াবেন পুত্র আনাস মাদানীই। মরহুমের মরদেহ রাত আজগর আলী হাসপাতাল থেকে ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় নেওয়া হয় সেখান থেকে রাত ৩টার পর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে৷ শনিবার সকাল থেকে মাদ্রাসার মাঠে উন্মুক্তভাবে তার মরদেহ সবাইকে দেখানো হবে।

এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে এম্বুলেন্সে করে হেফাজত আমিরকে প্রথমে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শুক্রবার বিকাল ৪ টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এয়ার এম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। ঢাকায় নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আল্লামা আহমদ শফী।