কর্ণফুলী দূষণ ও দখলমুক্ত রাখার দাবীতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সাম্পান বাইচ

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী দূষণমুক্ত রাখার দাবিতে হয়ে গেলো সাম্পান বাইচ প্রতিযোগিতা। বিকেলে সম্পন্ন বাইচ উপভোগ করতে নদীতীরে ভিড় করেন নগরবাসী।চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি একাডেমি ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি। মূলত কর্ণফুলী নদীর দূষণ ও দখলমুক্ত করতে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রম এ আয়োজন করা হয়।চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ফিরিঙ্গী বাজার ঘাটে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শাহ আমানত সেতু ঘুরে আবার সদরঘাটে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।। বৈঠার তালে তালে নৌকা এগিয়ে যায় দ্রুত গতিতে। পরে পাথরঘাটা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি নৌকায় রয়েছে ৯ জন করে মাঝি। এ সময় নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার মানুষ সাম্পান বাইচ দেখতে ভিড় জমান। অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়। প্রধান বক্তা ছিলেন সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলা উদ্‌যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী ফরিদ, বিশেষ বক্তা ছিলেন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান শাহেদুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এম এন আইচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এন সাফা।কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বিভিন্ন নদী আমরা রক্ষা করতে পারিনি বলে নানা সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় লক্ষ করেছি। কর্ণফুলী গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। কারণ, চট্টগ্রাম হলো দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আর চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী নদী। কর্ণফুলী নদী বাঁচাতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নদী রক্ষায় কাজ করতে হবে। যাঁরা এ নদী ব্যবহার করছেন, তাঁদের যেমন দায়িত্ব আছে; ঠিক তেমনিভাবে যাঁরা নদীর আশপাশে বসবাস করছেন, তাঁদেরও নদী বাঁচানোর দায়িত্ব রয়েছে।’ কর্ণফুলী নদী রক্ষায় পুলিশ সহযোগিতা করবে আশ্বাস দিয়ে কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, কর্ণফুলী নদীর বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সে নির্দেশনা বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ পুলিশের সহযোগিতা সব সময় পাবে।
প্রধান বক্তা চৌধুরী ফরিদ বলেন, কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে। কর্ণফুলী হলো দেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। অবৈধভাবে কর্ণফুলী নদীর তীর দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।