বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরে আলম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বঙ্গবন্ধুর সহচর, স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরে আলম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নুরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজীব আলম সিদ্দিকী ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য বুধবার (২৯ মার্চ)গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, নুরে আলম সিদ্দিকী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন এবং ‘৭০-এর নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতির এই সাহসী সন্তানের অবদান পরবর্তী প্রজন্ম চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর । তিনি পৃথিবীর সকল মায়ার বন্ধন ছেড়ে আজ বুধবার (২৯ মার্চ) ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে।তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত, দলীয় নেতা-কর্মী রেখে গেছেন।
আজ সকাল ১০টায় তার মরদেহ হেলিকপ্টারে করে ঝিনাইদহে নেওয়া হয়। বাদ যোহর তার নিজ জন্মভূমি ঝিনাইদহে সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।পর বাদ আছর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার জানাজা হবে। এ সময় নূরে আলম সিদ্দিকীকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হবে।

এরপর সাভারে নিজের করা মসজিদের পাশে তাকে কবরস্থ করা হবে বলে জানান
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী নুরে আলম সিদ্দিকী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিব বাহিনীর নেতা ছিলেন।
সত্তরের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৭০-১৯৭২ মেয়াদে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধের চার খলিফার একজন হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। মুজিববাহিনীর অন্যতম কর্ণধার ছিলেন তিনি।

নূরে আলম সিদ্দিকী ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন যশোর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে অংশ নিয়েছিলেন।

নূরে আলম সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপিও ছিলেন।