ব্রেকিং নিউজ »১০ নম্বর মহাবিপৎ সংকেত

বিশেষ আবহাওয়া সতর্কবার্তা
»পায়রা-মোংলায় ১০ নম্বর, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপৎ সংকেত»
নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলের নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করেছে।স্বাভাবিক জোয়ার ছাড়া ৩-৪ ফুট পানি বেড়েছে। উত্তাল সাগর
রোববার (২৬ মে) (সকাল ১০ টা) আবহাওয়া সূত্রে পাওয়া সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এ পরিণত হয়েছে। তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসাবে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আঘাতের আশংকা। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাপবিদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছেন।প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি এখন বাংলাদেশের উপকূল থেকে ২০০ কিলোমিটারে কম দূরত্বে অবস্হান করতেছে ঘুর্নিঝড় রেমালের কেন্দ্র।  এটি বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। রবিবার সন্ধ্যা বা মধ্যরাত নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
সন্ধীপ হাতিয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে জোয়ারের পানি বাড়ছে সড়ক ও বাড়িঘরে আছড়ে পড়ছে পানির স্রোত। উপকূলবর্তী বিশেষ করে বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও নোয়াখালী, ভোলা, ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে উপকূলের জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের ওপর আছড়ে পড়ছে পানির স্রোত।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নিচু এলাকা ও দ্বীপের অধিবাসীদের ২৬ মে দুপুরের মধ্যে নিরাপদ অবস্থান গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বিডব্লিউওটি।সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত নামিয়ে তার বদলে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে  ৯ নম্বর মহাবিপৎ সংকেত দেখাতে বলা হয়।
বাতিল করে দেওয়া হয় কক্সবাজার ও কলকাতা রুটের বিমানের ফ্লাইট।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আরো শক্তিশালী হয়ে রেমাল প্রবল শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় রোববার সন্ধ্যা বা রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

উপকূলবাসীর কাছে আতঙ্কের মাস মে। প্রতিবছর এই মাসের শেষে সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে বিভিন্ন প্রলয়ংকরী সব ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসের খবর শুনলেই আঁতকে ওঠেন উপকূলীয় বাসিন্দারা।প্রতিবছর এই মাসের শেষে সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে বিভিন্ন প্রলয়ংকরী সব ঘূর্ণিঝড়। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জলোচ্ছ্বাস আইলাও আঘাত হেনেছিল এই মে মাসের ২৫ তারিখ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে নদীর পানি বেড়ে এই বুঝি বাঁধ ভেঙে ভেসে যাবে সবকিছু। এর আগে উপকূলে যতবার ঝড় আঘাত হেনেছে ততবারই ভেসে গেছে তাদের ঘরবাড়ি। সেসময় যথাযথভাবে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষে বলেন ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, কখনো কখনো এটি ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রেমাল সন্ধ্যার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় ৮ থেকে ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূল। এ অবস্থায় রোববার ভোরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।।
নিম্নচাপের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।পূর্বাভাস অনুসারে আগামীকাল সন্ধ্যায় মূল ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে